ডেনমার্কের শাসনাধীন স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে একটি বিশাল ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেন যে, লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই বড় মাপের চিকিৎসা জাহাজটি সেখানে পাঠানো হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের বহু মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন এবং তাদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর আধুনিক হাসপাতাল জাহাজ ইউএসএস মার্সির একটি ছবিও শেয়ার করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিস্ময় ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে বর্তমানে অত্যন্ত উন্নত মানের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা চালু রয়েছে, যেখানে নাগরিকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা পান। এমন স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেশে আমেরিকার পক্ষ থেকে হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ডেনমার্কের সরকার কিংবা গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরে লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যিনি এই বর্তমান পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড ভূখণ্ডটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বা কেনার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। এর আগে গত জানুয়ারিতে ন্যাটোর শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বীপটি নিয়ে একটি ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন তিনি, যা ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্রমাগত হস্তক্ষেপ গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া আমেরিকার ব্যয়বহুল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আগে থেকেই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে ইউএসএস মার্সি এবং ইউএসএস কমফোর্ট নামে দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে, যা মূলত যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সময় ব্যবহার করা হয়। গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার পিটুফিক স্পেস বেস নামক একটি সক্রিয় সামরিক ঘাঁটি আগে থেকেই বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ কি শুধুই মানবিক সাহায্য নাকি দ্বীপটির ওপর মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের কোনো সুদূরপ্রসারী কৌশল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।







